Monday, 19 January 2015

ভারতের প্রধান ১০টি অমূল্যায়িত পেশা


শামীম হোসেন : মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে কেউ একা বসবাস করতে পারে না। প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তারপরও মানুষের মধ্যে পেশার ধরণ ও প্রকার নিয়ে রয়েছে ব্যাপক ফারাক। সমাজে এমনও পেশার লোক আছে যারা তাদের ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ থেকে সহজতর করতে তুলছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে অধিকাংশ সময়ে আমরা তাদের সেই কাজের মূল্যায়ন করি না বা তাদের এই কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করি না। ইন্ডিয়া টাইসমের একটি রিপোর্টে ভারতের সবচেয়ে অবহেলিত বা অবিবেচিত ১০ টি পেশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে নিচে তা তুলে ধরা হল।

পত্রিকা বিক্রেতা :
ভারতের যে দশটি পেশাগুলো মূল্যায়ন করা হয় না তার মধ্যে প্রথমেই স্থান পেয়েছে পত্রিকা বিক্রেতা। অথচ তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিদিনের পত্রিকা পৌঁছে দেন। এমনকি আমাদের বন্ধের দিনও। কিন্তু আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না।

ডাকপিয়ন :
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডাকপিয়ন। তারা সময় মতো আমাদেরকে চিঠি অথবা কুরিয়ার পৌঁছে দেন। কিন্তু আমরা কি নিজেদেরকে একবারও জিজ্ঞেস করেছি যে তাদেরওতো জীবন আছে।

শিক্ষক :
তালিকার তিন নম্বারে আছে শিক্ষক। শিক্ষকরা আমাদেরকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলেন। এজন্য তাদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে ক’জনইবা শিক্ষক হতে চায়।

টোকাই :
অবিবেচিত পেশার তালিকায় ৪ নম্বারে আছে টোকাই। আমরা নোংরা করি আর টোকাইরা তা পরিস্কার করে। তারা ময়লা পরিস্কার করে কিন্তু তারা অপরিস্কার নয়। তাই তাদেরকে দেখে হাসি মুখে কথা বলা উচিত।

গৃহপরিচারীকা :

এই তালিকায় ৫ নম্বারে আছে গৃহপররিচারীকা। অর্থ্যাৎ বাড়ির কাজের লোক। তারা আমাদের ঘরের কাজে সাহায্য করলেও আমরা তার সঠিক মূল্যায়ন করতে জানি না।

নৈশপ্রহরী :

তালিকায় ৬ নাম্বারে আছে নৈশপ্রহরী। এরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দিন-রাত আমাদের মূল্যবান সম্পদ পাহারা দিলেও আমরা তাদেরকে সমাজে ছোট নজরেই দেখি। 

পশু চিকিৎসক :
এই তালিকায় ৭ নম্বারে আছে পশু চিকিৎসক। এরা তাদের মেধা দিয়ে আমাদের গৃহপালিত পশু-পাখির চিকিৎসা করে থাকেন। কিন্তু আমরা সমাজে তাদেরকে ছোট নজরেই দেখি। অন্যান্য চিকিৎসকদের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও পশু চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ থাকে অনেক কম।

সেবিকা :
ডাক্তাররা রোগিকে চিকিৎসা করে কিন্তু সারাক্ষণ রোগির পাশে থাকে নার্স। তবে দুঃখের বিষয় তাদের কাজের তেমন মূল্যয়ন আমাদের সমাজে হয় না।

ট্যাক্সি চালক :
তালিকায় ৯ নাম্বারে আছে ট্যাক্সি চালক। তাদের গাড়িতে চড়েই আমরা বিভিন্ন জায়গায় যায়। তাদের সেবার মাধ্যমে আমাদের সময় অনেকাংশে সংরক্ষিত হয় কিন্তু তারা সবসময়ই অমূল্যায়িত থেকে যান।

হোমমেকার :
সমাজে আরেকটি অমূল্যায়িত পেশা হচ্ছে হোমমেকার। আর ভারতে এই হোমমেকারের কাজ ফুলটাইম। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের ঘরে অথবা ঘরের বাইরের কাজ করে থাকেন। কিš‘ তাদের এই কাজ তেমনভাবে মূল্যায়িত হয় না। এবং এ কাজের কোনো স্বীকৃতিও মেলে না।

সুতরাং, তাই সমাজে কোনো পেশাকে ছোট করে না দেশে প্রত্যেক পেশার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত । এবং তাদের কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও জরুরি। কেননা আমাদের জীবনকে সুন্দরময় করে তুলতে তাদেরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে। ইন্ডিয়াটাইমস থেকে ভাষান্তরিত

No comments:

Post a Comment

About Me

My photo
শামীম হোসেন ১৯৯২ সালের ১০ আগস্ট যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে শিক্ষাজীবনেই তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানস নাট্যাঙ্গনে তিন বছর সক্রিয় থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর দুটি প্যাকেজ নাটক এবং অসংখ্য শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি শর্টফিল্ম রচনা ও পরিচালনাও করেছেন। ২০১৬ সালে ইয়াসিন রহমান সুমনের পরিচালনায় শিশু মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীক ‘কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট’ নামে একটি শর্টফিল্মে প্রথম অভিনয় করেন। ২০১৯ সালে তার লেখা ও পরিচালনায় প্রথম শর্টফিল্ম ‘যদি থাকে নসিবে’ রিলিজ হয়। তার উল্লেখযোগ কাজের মধ্যে রয়েছে- কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট (শর্টফিল্ম), যদি থাকে নসিবে (শর্টফিল্ম), ভিলেজ মেম (নাটক), তাফালিং জামাই (নাটক), ক্ষুধার্ত দৈত্য (শর্টফিল্ম), আলম দালাল (নাটক), প্রেম সম্রাট (শর্টফিল্ম), অদ্ভুত কালো ভুতের প্রেম (শর্টফিল্ম), কাঠগড়ায় মায়ের সম্মান ও জাদুর বাকশ। শামীম হোসেন সাংবাদিকতা, নাটক ও শর্টফিল্ম লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি গানও লিখেছেন বেশ কয়েকটি। ‘করোনা থেকে বাঁচার প্রার্থনা’ ও ‘তুলে নাও হে প্রভু মহামারি করোনা’ শিরোনামে দুটি সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানও কভার করেছেন।