Monday, 19 January 2015

চাষী নজরুল আসলে কার? কোন দলের?

যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, যে মানুষটা নিজেও ছিলেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, সেই লোকটি কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শের কারণে বিশেষ কারও হতে পারে? বিশেষ দলের হতে পারে? রোববার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট চল”িচত্রকার চাষী নজর“ল ইসলামের স্মরণসভায় বক্তারা এ প্রশ্ন ছোঁড়েন উপস্থিত সকলের প্রতি। বাংলাদেশ ডিজিটাল ফিল্ম সোসাইটি এ সভা আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক শেখ আবুল কাশেম মিঠু, বাংলাদেশ চলচচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি লিটন এরশাদ, প্রয়াত মিশুক মুনীরের সহধর্মিণী মঞ্জুলী কাজী, চাষী নজর“ল ইসলামের কন্যা আন্নি ইসলাম।
চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চাষী ভাই একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ অনুসরণ করলেও তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। দল একটা মঞ্চ হতে পারে, কিন্তু চেতনা তো কোনো মঞ্চের নয়। তিনি সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন শরৎচন্দ্রের রচনা নিয়ে। তার চেহারাও শরৎচন্দ্রের মতো। এমন একটা মানুষকে রাজনৈতিক ফ্রেমে বাঁধা যায় না।
চাষী নজর“ল অসাম্প্রদায়িক চেতনার ছিলেন উলে­খ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ব্রিটিশ সময়ের ক্যামেরাম্যান সাধন রায়কে তিনি পিতার মতো দেখতেন। সাধন রায়ের কোনো সম্পাদনাদি ছিল না। মৃত্যুর পর চাষী নজরুল তার মুখাগ্নি করেছিলেন। মঞ্জুলী কাজী বলেন, চাষী ভাই ছিল আমার ছায়া। আমার দুর্যোগকালেও তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত সিনেমা করলেন তার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সরকারের কেউ পাশে ছিল না। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও কেউ আসেনি। আমি প্রশ্ন রাখতে চায়, চাষী ভাই আসলে কার? কোন দলের?

আন্নি ইসলাম বলেন, বাবাকে নিয়ে এখন অনেকে অনেক কথা বলছেন। বাবা বেঁচে থাকলে বলতাম, দেখো, তোমাকে নিয়ে কতো মানুষ কতো কথা বলছে। বাবাকে যে সবাই ভালো বলছে, এ জন্য আমি গর্ববোধ করছি।

স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি কে এম মামুন, চাষী নজর“ল ইসলামের প্রধান সহকারী তারিক সিকদার, সোসাইটির সদস্য আব্দুল গণি বিদ্বান, বদিউর রহমান সোহেল, সাজেদুর রহমান সাজু, শেখ রকিব উদ্দিন ও শাহাদাৎউল­াহ টুটুল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তার শেষ নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের ‘কোথায় আছো কেমন আছো’। ক্যান্সারের বীভৎসতা ও মৃত্যুর করুণ কাহিনি নিয়ে এ সিনেমা ছিল। তিনি এটি শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তার আগেই ক্যান্সার তার প্রাণ কেড়ে নিল।
বক্তারা আরও বলেন, চাষী নজরুল একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন বলে সাংস্কৃতিক জোটের একাংশ তার মৃত্যুর আগে-পরে তাকে দেখতে যাননি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মানুষকে কোনো দলের বলে ছোট করা ঠিক নয়। আমাদের দুই নেত্রী যেখানে একে-অপরের মুখ দেখেন না, সেখানে সবার শোকবার্তা পাঠানো প্রমাণ করে শিল্পীকে সম্মান করা সকলের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রকার, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment

About Me

My photo
শামীম হোসেন ১৯৯২ সালের ১০ আগস্ট যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে শিক্ষাজীবনেই তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানস নাট্যাঙ্গনে তিন বছর সক্রিয় থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর দুটি প্যাকেজ নাটক এবং অসংখ্য শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি শর্টফিল্ম রচনা ও পরিচালনাও করেছেন। ২০১৬ সালে ইয়াসিন রহমান সুমনের পরিচালনায় শিশু মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীক ‘কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট’ নামে একটি শর্টফিল্মে প্রথম অভিনয় করেন। ২০১৯ সালে তার লেখা ও পরিচালনায় প্রথম শর্টফিল্ম ‘যদি থাকে নসিবে’ রিলিজ হয়। তার উল্লেখযোগ কাজের মধ্যে রয়েছে- কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট (শর্টফিল্ম), যদি থাকে নসিবে (শর্টফিল্ম), ভিলেজ মেম (নাটক), তাফালিং জামাই (নাটক), ক্ষুধার্ত দৈত্য (শর্টফিল্ম), আলম দালাল (নাটক), প্রেম সম্রাট (শর্টফিল্ম), অদ্ভুত কালো ভুতের প্রেম (শর্টফিল্ম), কাঠগড়ায় মায়ের সম্মান ও জাদুর বাকশ। শামীম হোসেন সাংবাদিকতা, নাটক ও শর্টফিল্ম লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি গানও লিখেছেন বেশ কয়েকটি। ‘করোনা থেকে বাঁচার প্রার্থনা’ ও ‘তুলে নাও হে প্রভু মহামারি করোনা’ শিরোনামে দুটি সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানও কভার করেছেন।