Monday, 19 January 2015

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

বগুড়ার শাহজাহানপুরে ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকাল ৫ টার দিকে নয় মাইল নামক স্থানে ঢাকা-বগুড়া জাতীয় মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে । তৎক্ষণিকভাবে নিহত এবং আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান , সোমবার বিকালে নয়মাইল এলাকায় দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একটি কয়লাবোঝাই ট্রাকের এলাকায় বিপরীতমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। এতে আহত হন আরও ৪জন।

শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) আব্দুর মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

চাষী নজরুল আসলে কার? কোন দলের?

যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, যে মানুষটা নিজেও ছিলেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, সেই লোকটি কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শের কারণে বিশেষ কারও হতে পারে? বিশেষ দলের হতে পারে? রোববার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট চল”িচত্রকার চাষী নজর“ল ইসলামের স্মরণসভায় বক্তারা এ প্রশ্ন ছোঁড়েন উপস্থিত সকলের প্রতি। বাংলাদেশ ডিজিটাল ফিল্ম সোসাইটি এ সভা আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক শেখ আবুল কাশেম মিঠু, বাংলাদেশ চলচচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি লিটন এরশাদ, প্রয়াত মিশুক মুনীরের সহধর্মিণী মঞ্জুলী কাজী, চাষী নজর“ল ইসলামের কন্যা আন্নি ইসলাম।
চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চাষী ভাই একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ অনুসরণ করলেও তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। দল একটা মঞ্চ হতে পারে, কিন্তু চেতনা তো কোনো মঞ্চের নয়। তিনি সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন শরৎচন্দ্রের রচনা নিয়ে। তার চেহারাও শরৎচন্দ্রের মতো। এমন একটা মানুষকে রাজনৈতিক ফ্রেমে বাঁধা যায় না।
চাষী নজর“ল অসাম্প্রদায়িক চেতনার ছিলেন উলে­খ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ব্রিটিশ সময়ের ক্যামেরাম্যান সাধন রায়কে তিনি পিতার মতো দেখতেন। সাধন রায়ের কোনো সম্পাদনাদি ছিল না। মৃত্যুর পর চাষী নজরুল তার মুখাগ্নি করেছিলেন। মঞ্জুলী কাজী বলেন, চাষী ভাই ছিল আমার ছায়া। আমার দুর্যোগকালেও তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত সিনেমা করলেন তার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সরকারের কেউ পাশে ছিল না। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও কেউ আসেনি। আমি প্রশ্ন রাখতে চায়, চাষী ভাই আসলে কার? কোন দলের?

আন্নি ইসলাম বলেন, বাবাকে নিয়ে এখন অনেকে অনেক কথা বলছেন। বাবা বেঁচে থাকলে বলতাম, দেখো, তোমাকে নিয়ে কতো মানুষ কতো কথা বলছে। বাবাকে যে সবাই ভালো বলছে, এ জন্য আমি গর্ববোধ করছি।

স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি কে এম মামুন, চাষী নজর“ল ইসলামের প্রধান সহকারী তারিক সিকদার, সোসাইটির সদস্য আব্দুল গণি বিদ্বান, বদিউর রহমান সোহেল, সাজেদুর রহমান সাজু, শেখ রকিব উদ্দিন ও শাহাদাৎউল­াহ টুটুল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তার শেষ নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রের ‘কোথায় আছো কেমন আছো’। ক্যান্সারের বীভৎসতা ও মৃত্যুর করুণ কাহিনি নিয়ে এ সিনেমা ছিল। তিনি এটি শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তার আগেই ক্যান্সার তার প্রাণ কেড়ে নিল।
বক্তারা আরও বলেন, চাষী নজরুল একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করতেন বলে সাংস্কৃতিক জোটের একাংশ তার মৃত্যুর আগে-পরে তাকে দেখতে যাননি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মানুষকে কোনো দলের বলে ছোট করা ঠিক নয়। আমাদের দুই নেত্রী যেখানে একে-অপরের মুখ দেখেন না, সেখানে সবার শোকবার্তা পাঠানো প্রমাণ করে শিল্পীকে সম্মান করা সকলের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রকার, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সফরে নো-ফ্লাই জোন করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ওবামা সফরের সময় সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে- যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন সতর্ক বার্তা পাওয়ার পর থেকে ভারত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে তাজমহলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারতের এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

ওবামার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠান এক হাজার ৬০০ মার্কিন নিরাপত্তা কর্মীরা উপস্থিতত থাকবে। এছাড়া রাস্তায় থাকবে ১৫ হাজার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)।

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড চলাকালে রাজপথ এলাকাকে নো-ফ্লাইজোন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভারত তাদের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে। দিল্লি  থেকে বলা হয়েছে, এ কাজটি করা সম্ভব নয়। এদিকে, ওবামার ভারত সফরকালে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি-আগ্রা মহাসড়কের সব হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ভারতের পুলিশকে ২৫ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের জন্য দিল্লি-আগ্রা মহাসড়কের আশপাশের সব হোটেল ও খাবার দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

শুক্রবার পুলিশ কমিশনার বিএস বাসসি এর সভাপতিত্বে এক আন্তঃরাজ্য নিরাপত্তা বৈঠকে দিল্লি পুলিশ এ পদক্ষেপপ বাস্তবায়নে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে।

পুলিশ জানায়, দিল্লিমুখী সড়কগুলো বন্ধ রাখা হবে বিধায় ২৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারী যানবাহনগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেরার বিষয়েও আলোচনা করেন। নগরীতে অপরাধীদের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সশস্ত্র টহল বসানো হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জীবনে থামতে জানতে হয় : রাজকুমার হিরানি

পিকে (২০১৪) ও থ্রি ইডিয়টস (২০০৯) ছবির জন্য আলোচিত রাজকুমার হিরানি। হিরানি পরিচালিত অন্য দুটি চলচ্চিত্র মুন্নাভাই এমবিবিএস (২০০৩) ও লাগে রাহো মুন্না ভাই (২০০৬)। তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ২০ নভেম্বর ভারতের নাগপুরে। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্রকটাকে।

আপনার জীবনাদর্শ কী? জীবনে বহুবার আমি এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। কখনোই প্রকৃত উত্তর খুঁজে পাইনি। আমরা আসলে কেউই জানি না আমরা কেন এই ধরাধামে এসেছি। মানুষ বাঁচে কত দিন? বড়জোর ষাট, সত্তর কিংবা আশি বছর? প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর আপনি যদি মনে করেন জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, তাহলে দেখবেন, জীবনটাকে আপনি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারছেন। কিন্ত মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা প্রায় সবাই মনে করি, আমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে, জীবনের আয়ু সংক্ষিপ্ত নয়।

তাই আমি মনে করি, আমাদের প্রতি মুহূর্তে মনে করা উচিত, এ পৃথিবীতে আমাদের সময় খুব, খুব সামান্য। আজ থেকে ৫০ অথবা ৭৫ বছর পর কেউ হয়তো আমাকে আর চিনবে না। তো এসব চিন্তা করে ঘুম নষ্ট করার দরকার কী! এসব নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাই না। আমাদের প্রয়োজন টাকা, আমাদের প্রয়োজন সম্পদ, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, এসব অর্জনেরও একটা সীমা আছে। আমি মনে করি, মানুষের জীবনে সত্যিকার অর্থে দুটি সমস্যা আছে এক. স্বাস্থ্য ও দুই. দারিদ্র্য।

আপনি দেখবেন, যারা জ্যোতিষীর কাছে যায়, তারা জানতে চায় তাদের টাকাপয়সা কিংবা সম্পদ হবে কি না, তাদের ¯স্বাস্থ্য ভালো থাকবে কি না ইত্যাদি। কারণ জীবনের শেষ বেলায় এক সকালে উঠে আপনার মনে হবে, আপনার দেখভাল করার মতো কেউ আছে কি না। আর তখনই আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে।

আমি মনে করি, আমি সব সময় ও রকমটাই ভাবি। এটা কিছুটা বংশগত ব্যাপারও বটে। আমি সৌভাগ্যবশত এমন এক পরিবারে জন্মেছি যে পরিবারটা খুব একটা ধনী ছিল না। তবে বাবা চিন্তা-চেতনায় ছিলেন যথেষ্ট আধুনিক।

একবার আমাকে খুব ভয় দেখানো হলো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানলাম, শরীরের কোনো একটা অংশ ঠিকঠাকমতো কাজ করছে না। চিকিৎসক বললেন, পরিবারের কাছে ফিরে যান, আপনি খুব শিগগিরই জটিল রোগে আক্রান্ত হবেন। চাপের মধ্যে ভালো কাজ করা মানে অনেকটা সংগ্রাম করার মতো। আমি সব সময় চেষ্টা করি এই ‘মানসিক চাপ’ বিষয়টাকে পাত্তা না দিতে।

বিলিয়ার্ড খেলোয়াড় গীত সিতাই একবার আমাকে বলেছিলেন, তিনি একবার থাইল্যান্ডে ফাইনাল খেলা খেলছিলেন। তার প্রতিপক্ষের নাম ছিল সম্ভবত ওয়াত্তানা। এই খেলোয়াড় প্রচুর পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা খেলায় হেরে গেলেন এবং তারপর একের পর এক হারতে লাগলেন। স্বাভাবিকভাবেই গীত তখন খুব অবাক হয়েছিলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ব্যাপার কী? উত্তরে ওয়াত্তানা বলেছিলেন, আমি মনে করি, আমি সেই খেলায় অবশ্যই জিততাম। কিন্তু আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল পুরস্কারের টাকার দিকে। আমি ভাবছিলাম, পুরস্কারের টাকা পেলে আমার বাবার জন্য একটা বাড়ি কিনব। এই ভাবনা আমাকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছিল। আমি তখন কিছুটা নার্ভাস বোধ করছিলাম। কিছুতেই খেলায় মনঃসংযোগ করতে পারছিলাম না এবং যার ফলে আমার প্রতিপক্ষ খেলাটায় জিতেছিল।

গীতের এই গল্প থেকে আমি শিখেছিলাম, আপনি কী করছেন, তার লক্ষ্য ঠিক রাখা খুবই জরুরি।

আমি সম্প্রতি ক্রিস্টোফার নোলানের একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো মুঠোফোন ব্যবহার করেন না। এমনকি তার কোনো ই-মেইল আইডিও নেই। প্রতিদিন আপনি নাছোড় বান্দার মতো অন্তত ২০ হাজার মানুষের মনোযোগ চান। কিছু মানুষ এ বিষয়টিকে উপভোগ করতে পারে, তবে কিছু মানুষ মনে করে এটা এক ধরনের চিত্তবিনোদন। তো এ কথা বললাম এ জন্য যে আমাকে বিরক্ত করার কেউ নেই, না ফোন, না কোনো মানুষ। কিন্তু যখন আপনি একটু একটু করে পরিচিত হয়ে উঠবেন, তখন অনেক কিছুই আপনার পিছু লাগবে। জগতে চিত্তবিনোদনের অনেক উপাদান আছে। আপনাকে কর্মে সফল হতে হলে ওই সব থেকে অবশ্যই নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

প্রত্যেকের বোঝা উচিত, ‘প্রয়োজন’ ও ‘লোভের’ মধ্যে পার্থক্য কী। আপনার জানা উচিত, ঠিক কোন জায়গাতে আপনাকে থামতে হবে এবং এটাও জানা উচিত, ‘আর নয়, বহুত হয়েছে’ কথাটা কখন বলতে হবে। অনিশ্চয়তা আপনাকে খতম করে দিচ্ছে? পৃথিবীর সবেচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তির দিকে তাকান, তিনিও বলবেন, ভয় লাগে, কখন সব শেষ হয়ে যায়! আপনি যদি এই অনিশ্চয়তার ভয় কাটাতে পারেন, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।

অনেকেই আপনাকে খারাপ মানুষ মনে করতে পারে। কিন্তু আপনি নিজেকে কখনোই খারাপ মনে করেন না। এটা মানুষের স্বাভাবজাত প্রবৃত্তি। এ বিষয়টি প্রথম মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল বোমান ইরানি, যখন আমরা একসঙ্গে মুন্না ভাই এমবিবিএস বানা”িছলাম তখন। বিষয়টি নিয়ে বোমানের সঙ্গে অনেক বিতর্ক হয়েছে আমার। এরপর থেকে আমি যখন আমার ছবির কোনো চরিত্রের কথা ভাবি, তখন কখনোই সেই চরিত্রকে ‘ভিলেন’ হিসেবে ভাবি না। কারণ সে তার জীবনে তো ‘হিরো’। নিজের জীবনে মানুষ কখনো নিজেকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে দেখে না। সে কখনোই ভাবে না যে সে একজন খারাপ মানুষ।

সুতরাং এখন আপনি বুঝতেই পারছেন, আমরা আমাদের মাথার ভেতর আসলে গল্প তৈরি করি, ভিলেন বানাই।

কিছুদিন আগে মুম্বাই ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি বলেন, ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের বা”চাদেরও হাতে পৌঁছে গেছে আইপ্যাড, আইফোন। এ যন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে ভালো শিক্ষক।

থ্রি ইডিয়টস দেখার পর কত মানুষ আমার কাছে এসেছে, আমি তা বলে বোঝাতে পারব না। তারা বলেছে, তাদের মধ্যে কত গলদ আছে! আমি আপনাকে বলতে পারব না যে কত প্রকৌশলী আমার কাছে এসেছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা ভুল পেশায় আছি। আমরা এখন কী করব? আমরা এ পেশা ছাড়তেও পারি না। ভয় লাগে, কারণ এটাই যে আমাদের উপার্জনের পথ। কেউ কেউ অবশ্য ছেড়েও দি”েছন। কিছু চিকিৎসকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তারা তাঁদের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।’

উপাচার্য মহাশয় সেদিন আমাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ আছে। শিক্ষাব্যবস্থার বদল প্রয়োজন। কিন্তু এটা বদলাতে সবাই ভয় পায়। যেদিন আমরা এই ভয় থেকে মুক্ত হতে পারব, সেদিনই সত্যিকার পথ খুঁজে পাব।’

আমার মনে হয়, জীবনে সফল হওয়ার জন্য যেকোনো একটা বিষয় প্রয়োজন। কিš‘ মানব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা বরাবরই আমাদের জীবন ও মনকে উদ্ভট পথে পরিচালিত করি। বেঁচে থাকার জন্য কিছু অর্থ উপার্জন করুন। দ্যাটস অ্যানাফ!

যাহোক, আমি শিক্ষা নিয়ে কথা বলছিলাম। বলছিলাম যে আমরা আসলে বাস করি কয়েক হাত ঘুরে আসা জ্ঞানের মধ্যে। বিষয়টি আর একটু পরিষ্কার করে বলা দরকার। যখন একটি পশু মারা যায়, সে আসলে মারাই যায়। পশুদের এমন কোনো প্রজন্ম নেই যারা তাদের জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সরবরাহ করতে পারে। কোনো পশুই বই লিখতে পারে না, যে বই বছরের পর বছর অন্য প্রাণীরা পড়তে পারে, কিš‘ মানুষ পারে। তাই মানুষের জ্ঞান আসলে ‘সেকেন্ডহ্যান্ড নলেজ!’

প্রথম আলো

মানুষ পুড়িয়ে আন্দোলনে আমরা বিশ্বাস করি না : খালেদা (ভিডিও)

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের কাছে আবারো সংলাপের  আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে। সরকার সংলাপের আহবানকে প্রত্যাখান করেছে।

পুলিশের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করেছে যাতে অনেকের প্রাণহানি ঘটেছে। পুলিশ প্রহরার মধ্যে নিরাপরাধ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে, আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারায় আমরা বিশ্বাস করি না। এসব ঘটনা সরকারই ঘটাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক ব্যক্তিদের গ্রেফতার না করে বিএনপির নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সারাদেশে যারা গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করছে তাদের ধন্যবাদ। সরকার আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখার আগে সারাদেশকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় আমাদের ওপর নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে করা হয়। তিনি আইনশৃক্সখলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভ‚মিকা পালনের আহবান জানান।

সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির জরুয়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

https://www.youtube.com/watch?v=pAGQZB--TCk

সাকিবের বিগ ব্যাশ শেষ


খেলেছেন মাত্র চার ম্যাচ। জিতেছেন দুটিতে। এছাড়া মেলবোর্ন রেনিগেডসের হয়ে আর কিছুই করতে পারলেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। গ্রুপ পর্বের ৮ ম্যাচে যে ৫টিতেই হেরে বিদায় নিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। একই সঙ্গে সমাপ্তি ঘটলো বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকার বিগ ব্যাশ অভিযান।

মেলবোর্নের ডকল্যান্ড স্টেডিয়ামে সাকিবের দল মেলবোর্ন রেনিগেডস বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল শীর্ষে থাকা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের। জিতলে সম্ভাবনা টিকে থাকত সেমিফাইনালের। হারলেই বিদায়। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালেই আর ওঠা হলো না সাকিবের দলকে।

অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের কাছে হারতে হয়েছে ২২ রানের ব্যাবধানে। মেলবোর্ন রেনিগেডসকে বিদায় করে দিয়ে ঠিকই সবার আগে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। ৮ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ১৩ পয়েন্ট। আর ৮ ম্যাচে ৫ হার এবং ৩ জয়ে মেলবোর্ন রেনিগেডসের পয়েন্ট মাত্র ৬। অবস্থােন দাঁড়িয়েছে ৬ নাম্বারে। সেরা চারে ঠাঁই করে নেওয়ার সুযোগ এখন আর তাদের নেই। সুতরাং বিদায়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাডিলেড। ট্রাভিস হেডের ৩৪ বলে টর্নেডো গতির ৭১ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে অ্যাডিলেড। কালভিন স্মিথ ৩৪ বলে করেন ৪১ রান।

বল হাতে এদিন শূন্যই ছিলেন সাকিব। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে কোন উইকেট পাননি তিনি। ৩ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন নাথান রিমিংটন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটেই ১৪৪ রানে থেমে যায় মেলবোর্ন রেনিগেডস। সর্বো”চ ৩৩ রান করেন বেন স্টোকস। ১৬ বলে ২২ রান করেন সাকিব।

ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ডি ভিলিয়ার্স


শামীম হোসেন : ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৩১ বলে তিনি এ রেকর্ড গড়েন। এর আগে ইংল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসন ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

রোববার জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি এ রেকর্ড গড়েন।

১৪৯ রান করতে ডি ভিলিয়ার্স খরচ করেন ৪৪ বল। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১৬টি ছয়ের মার। তিনি ইনিংসের শেষ ওভারে রাসেলের বলে আউট হন।

৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ২ উইকেট ৪৩৯ রান। সেঞ্চুরি করেন হাশিম আমলা (১৫৩), রোশো (১২৮) ও ডি ভিলিয়ার্স (১৪৯)।

এটি ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডেতে ওটাই সর্বোচ্চ দলগত ইনিংস।

গত বছরের ১ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন কোরি অ্যান্ডারসন। তার রেকর্ড ভাঙ্গলেন ডি ভিলিয়ার্স। অ্যান্ডারসনের আগের রেকর্ডটা ছিল পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদির। ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর নাইরোবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আফ্রিদি।

About Me

My photo
শামীম হোসেন ১৯৯২ সালের ১০ আগস্ট যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে শিক্ষাজীবনেই তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানস নাট্যাঙ্গনে তিন বছর সক্রিয় থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর দুটি প্যাকেজ নাটক এবং অসংখ্য শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি শর্টফিল্ম রচনা ও পরিচালনাও করেছেন। ২০১৬ সালে ইয়াসিন রহমান সুমনের পরিচালনায় শিশু মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীক ‘কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট’ নামে একটি শর্টফিল্মে প্রথম অভিনয় করেন। ২০১৯ সালে তার লেখা ও পরিচালনায় প্রথম শর্টফিল্ম ‘যদি থাকে নসিবে’ রিলিজ হয়। তার উল্লেখযোগ কাজের মধ্যে রয়েছে- কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট (শর্টফিল্ম), যদি থাকে নসিবে (শর্টফিল্ম), ভিলেজ মেম (নাটক), তাফালিং জামাই (নাটক), ক্ষুধার্ত দৈত্য (শর্টফিল্ম), আলম দালাল (নাটক), প্রেম সম্রাট (শর্টফিল্ম), অদ্ভুত কালো ভুতের প্রেম (শর্টফিল্ম), কাঠগড়ায় মায়ের সম্মান ও জাদুর বাকশ। শামীম হোসেন সাংবাদিকতা, নাটক ও শর্টফিল্ম লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি গানও লিখেছেন বেশ কয়েকটি। ‘করোনা থেকে বাঁচার প্রার্থনা’ ও ‘তুলে নাও হে প্রভু মহামারি করোনা’ শিরোনামে দুটি সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানও কভার করেছেন।