Monday, 19 January 2015

সুন্দরবন নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি শঙ্কিত

শামীম হোসেন : সুুন্দরবনে তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় বিভিন্ন প্রাণির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। বুধবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সঙ্কা প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়েলবেঙ্গল টাইগার-ডলফিনের মতো বেশ কয়েকটি বিরল প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্যালা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেলের ভয়ঙ্কার পভাব পড়েছে সুন্দরবনের প্রাণি ও বন্যঅঞ্চলের ওপর। হুমকির মুখে পড়েছে এখানকার জীববৈচিত্র। আর সবচেয়ে বেশি হুমকিতে আছে ইরাবতী ডলফিন, রয়েলবেঙ্গল টাইগার, বড় বক, চিত্রাহরিণ, নোনা পানির প্রাণি, হরিণ আর কাঁকড়ার বিশেষ এক প্রজাতি। আর দুর্ঘটনার পরও তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি উদ্ধারে কালক্ষেপণেরও সমালোচনা করেছে ন্যাশনাশ জিওগ্রাফি।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সুন্দরবনের এই বিপর্যয় মানুষের জীবনকেও প্রভবিত করবে। ম্যনগ্রোভ থেকে মানুষ কাঠ ও এক ধরনের কষ সংগ্রহ কওে, যা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের উপর পাখি আশ্রয় নেয়। পাতা ও গাছের গোড়া চিংড়িসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণির খাবার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আর ভূমিতে অবস্থিত গাছে পোকামাকড় আশ্রয় নিয়ে থাকে। অনেক অঞ্চল নিয়ে সুন্দরবন গঠিত। এ দুর্ঘটনার ফলে এখানকার জীবন শৃক্সখলা জটিল হয়ে উঠবে।

বিশেষত: এখানে পৃথিবীর বহুসংখ্যক বাঘ বসবাস করে। সুন্দরবনের ভারতের অংশে প্রায় এক’শর বেশি বাঘ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অংশেও অসংখ্য বাঘ রয়েছে। এশিয়া থেকে যেখানে প্রায় তিন হাজারের মতো বাঘ হারিয়ে গেছে। সেখানে এই এক’শ বাঘ জীববৈচিত্রের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের বাঘ খুব দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। খাবারের জন্য তারা ভূমিতে থাকা প্রাণি শিকারের পাশাপাশি জলজপ্রাণিও খেয়ে থাকে। এমনকি কাঁকড়াও। তাই জলজপ্রাণি মারা গেলে এখানকার বাঘ খাদ্য সংকটে ভুগবে।

সুন্দরবনে অব¯’ানরত বড় বিড়াল ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য নিবেদিত ‘প্যানথেরিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের সিইও অ্যালান রবিনোজিত বলেন, এভাবে নৌযান চলাচল করলে, নোনা পানিতে বসবাস করা প্রাণির জন্য বেঁচে থাকা সহজ হবে না।

এদিকে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করায় ওই প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছ ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া তেল পরিস্কার করতে খুবই কম প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। আর ওই কাজে প্রয়জনীয় জনগণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের স্বত্তাধীকার কোম্পানি পদ্মা ওয়েল নদী থেকে তেল পরিস্কার করতে (বাই ব্যাক) নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে। তারা প্রতি লিটার তেল ৩০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছে। প্রয়জনীয় জেলেরাও জাল দিয়েও তেল সংগ্রহ করছে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানিরা বলছেন, হয়তো বা নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো বিশেষজ্ঞ পৃথিবীর কোথাও নেই।

বাংলাদেশের পার্শবর্তী দেশ ভারত বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের ‘সুন্দরবন জাতীয় পার্কে’র পরিচালক প্রদিপ ভিয়াস বলেন, সুন্দরবনের ভারতের অংশে তেল ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে বণ্যপ্রানি সংরক্ষণ বিভাগ বাংলাদেশ সীমান্তে লোক নিয়োগ করেছে।
সত্যিকার অর্থে এই দুর্ঘটনাটি শুকনা মৌসুমে ঘটেছে। যদি বর্ষার মৌসুমে ঘটতো তাহলে আরো বিস্তৃত এলাকায় এই তেল ছড়িয়ে পড়ত।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফি থেকে ভাষান্তরিত

No comments:

Post a Comment

About Me

My photo
শামীম হোসেন ১৯৯২ সালের ১০ আগস্ট যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে শিক্ষাজীবনেই তার সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার শুরু। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মানস নাট্যাঙ্গনে তিন বছর সক্রিয় থিয়েটার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর দুটি প্যাকেজ নাটক এবং অসংখ্য শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি শর্টফিল্ম রচনা ও পরিচালনাও করেছেন। ২০১৬ সালে ইয়াসিন রহমান সুমনের পরিচালনায় শিশু মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীক ‘কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট’ নামে একটি শর্টফিল্মে প্রথম অভিনয় করেন। ২০১৯ সালে তার লেখা ও পরিচালনায় প্রথম শর্টফিল্ম ‘যদি থাকে নসিবে’ রিলিজ হয়। তার উল্লেখযোগ কাজের মধ্যে রয়েছে- কান্ট্রি ইজ মাই হার্ট (শর্টফিল্ম), যদি থাকে নসিবে (শর্টফিল্ম), ভিলেজ মেম (নাটক), তাফালিং জামাই (নাটক), ক্ষুধার্ত দৈত্য (শর্টফিল্ম), আলম দালাল (নাটক), প্রেম সম্রাট (শর্টফিল্ম), অদ্ভুত কালো ভুতের প্রেম (শর্টফিল্ম), কাঠগড়ায় মায়ের সম্মান ও জাদুর বাকশ। শামীম হোসেন সাংবাদিকতা, নাটক ও শর্টফিল্ম লেখা ও পরিচালনার পাশাপাশি গানও লিখেছেন বেশ কয়েকটি। ‘করোনা থেকে বাঁচার প্রার্থনা’ ও ‘তুলে নাও হে প্রভু মহামারি করোনা’ শিরোনামে দুটি সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অসংখ্য জনপ্রিয় গানও কভার করেছেন।